যুদ্ধ, দাসপ্রথা ও নারীর অধিকার: ইসলামের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধ, দাসপ্রথা ও নারীর অধিকার: ইসলামের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ধর্মের প্রবর্তন হয় বহুযুগ পরে। বিভিন্ন ধর্মের শক্তিশালী একটি মাধ্যম আখ্যান বা গল্প তৈরি করার ক্ষমতা, এবং এর পুরো বিশ্বাসটাই কেন্দ্রীভূত হয় একটি অদেখা বিষয়ের উপর।

মানুষ যখন কোনো গ্রন্থ, মতবাদ বা আদর্শকে ভুলহীন বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন তার মনস্তাত্ত্বিক জগতে এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে মানুষ যখন নৈতিক প্রগতি, বিজ্ঞান এবং চেতনার স্তরে উন্নত হয়, তখন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় প্রথা এবং আইন আধুনিক মানুষের কাছে অন্যায় ও অমানবিক বলে মনে হয়।

১৪০০ বছর পূর্বে ধূর্ত নবী মোহাম্মদের বদৌলতে দাসপ্রথা ও যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের যৌন দাসত্ব প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা পায়।

ঐতিহাসিক শরিয়াহ বা ফিকহশাস্ত্রের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হলো যুদ্ধে বন্দিনী নারী ও দাসীদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের আইনি বৈধতা, যাকে শাস্ত্রীয় ভাষায় বলা হতো মালাকাত আইমানুকুম। আধুনিক মানুষ এমন বর্বরতাকে দাসপ্রথা হিসেবে কিছুটা হালকাভাবে দেখার চেষ্টা করে, কিন্তু অতীতের ইতিহাস ছিল পদ্ধতিগত এবং নির্মম।

ধূর্ত নবী দাবি করা মোহাম্মদ ইসলাম প্রচারকে উদ্দেশ্য হিসেবে সামনে রেখে যত যুদ্ধ সংঘটিত করেছে, তার পেছনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সম্পদ এবং নারী। সে সময়কার যুদ্ধগুলোতে বিজয়ী মুসলিম বাহিনী যখন কোনো অঞ্চলের পুরুষদের হত্যা ও বন্দী করত, তখন তাদের স্ত্রী, কন্যা এবং মায়েদের গণিমতের মাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হিসেবে নবী মোহাম্মদ নিজে এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করত। এরপর তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের নামে ধর্ষণ করা হতো।

ইসলাম ক্রীতদাসী বা যুদ্ধে বন্দিনী নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে বৈধ করেছিল এবং এর জন্য কোনো বিয়ের প্রয়োজন হতো না। আইনি শর্ত ছিল এক মাস (একবার ঋতুস্রাব) পর্যন্ত অপেক্ষা করা। কোনো নারী গর্ভবতী নন—এটি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই সেই নারীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সম্পূর্ণ ধর্মীয় বৈধতা দেওয়া হতো। এই হচ্ছে ইসলামের কাছে নারীর মর্যাদার একটি উদাহরণ।

দ্বীন ইসলামের নবী স্বয়ং ধর্ষক ছিলেন। ছিলেন নারীলিপ্সু। শুধুমাত্র ১১ স্ত্রী এবং ২ জন যৌন দাসীই নয়; ছিলেন এপস্টিনের ভূমিকায়। নাবালিকা ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ের নামে দিনের পর দিন তাঁর যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেছে নবী মোহাম্মদ। শুকরের মতো একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ আর যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ করেই উম্মতের সংখ্যা বাড়াতেন।

বর্তমান সময়ে সারা দেশে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো যে ঘটনাপ্রবাহগুলো সামনে আসে, তা নবী মোহাম্মদের জীবনী থেকে উৎসাহিত হয়ে। এরা এখনও ধর্মীয় ফতোয়ায় নারীদের বন্দী করে রাখতে চায়।

এই যেমন, কিছুদিন আগে আলখেল্লা পরা দাড়ি-টুপিওয়ালা এক ধর্মের পাঠা বলছে, যার মেয়ে রাস্তায় হাঁটছে, তার বাবা তাহাজ্জুদ পড়লেও জান্নাত পাবেন না; তিনি হচ্ছেন দাইয়ুস। এরা আসলে ভয় পায় স্বাধীন, সচেতন ও সাহসী নারীদের। তাই নারীদের এখন শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে, যুজুর ভয় দেখিয়ে, পরিবারগুলোকেও ধর্মান্ধতার উগ্রতায় ঢেকে শেকলবন্দী করতে চায়। যাতে দুনিয়াটাকেও মুতা বিয়ে, একাধিক স্ত্রী গ্রহণ, আর সর্বশেষ রূপকথার জান্নাতের পতিতালয়ে ৭২ হুরের সঙ্গে অবাধ যৌন সংসর্গের পথ সুগম হয়। এটি এখন তাদের ঈমানি দায়িত্ব—সকল মুসলমানের জন্য তা নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *