২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে আকস্মিকভাবে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার উত্থান ঘটেছে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যানারে সারাদেশে একযোগে জঙ্গি গোষ্ঠীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে সরকার পতনের ডাক দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামপন্থী/ইসলামী-ঘনিষ্ঠ দলগুলো একযোগে সারাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এর সাথে রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বিএনপির মত রাজনৈতিক দলগুলো যুক্ত হয়।
কিন্তু এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, বিএনপির সে সময়কার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বেশ পুরনো। জঙ্গি মামলায় তিনি ছিলেন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে পলাতক আসামি।
উল্লেখ্য, ইসলামী খেলাফত কায়েমেরও দাবি তুলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এই পতাকা ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য।
(সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক)
কিন্তু এসব কি নিতান্তই কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চাই; কোরানের আইন চাই এমন সব দাবীতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাজপথে কালেমা খচিত পতাকা হাতে কি বার্তা দিতে চায় এসব ইসলামী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো?
হঠাৎ করে এত জঙ্গি কোথা থেকেই এলো?
এরা কেন শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চায়?
সারাদেশে ধর্ষণ/বলাৎকার সংক্রান্ত প্রকাশিত খবরগুলো লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, এসব ঘটনা বেশিরভাগই আবাসিক মাদ্রাসা কেন্দ্রিক এবং ধর্মীয় লেবাসে কথিত ইসলামের আলেমদের দ্বারা সংঘটিত। এবং ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক কারণে বেশিরভাগ ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। যেগুলো প্রকাশিত হয় সেসব ঘটনাগুলো ধর্মীয় চাপে বিচারহীন ভাবেই মীমাংসিত হয়ে যায়। যদিও এমন সব ঘটনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ব্যত্যয়।
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা গেলেই এসব বলাৎকারের ঘটনাগুলোকে বিচারহীন ভাবেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব। নারীদের স্বাধীনতা হরণ করে কালো বোরখায় ঢেকে ফেলা সহজ। মুতা নারী ক্রয় করে যৌন খায়েশ মেটানো সম্ভব। এমনকি মসজিদে নারীদের ভাড়া করে এনে যৌন চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এবং আইয়ামে জাহেলিয়াতের ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যেখানে নবী মোহাম্মদের মত একাধিক বিয়ে, নারীদের গণিমতের মালের মত উপভোগ করা এবং আয়েশার মত ৬ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ করা সম্ভব। যেমনটা দেখিয়ে গিয়েছেন ধূর্ত ভণ্ড নবী মোহাম্মদ।
কিছুদিন আগেও হেফাজতে ইসলামীর আমির শফিকুল ইসলাম এপস্টেইনের মত শিশুদের মাথা দুই হাত দিয়ে সাঁড়াশির মত এমনভাবে ধরছেন যেন শিশুরা নড়াচড়া করে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, এভাবেই বাচ্চাদের জোরপূর্বক চুমু খাচ্ছেন। কিংবা মাদ্রাসার ধর্মীয় বাচ্চা ছেলেদের পুটকীখোর, লিল্লাখোর, রাজাকার, পাকপুত্র, মোল্লার ১৩ কিশোরিকে বিয়ে এবং মাওলানাদের শিশু বলাৎকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা না যায় এজন্যই শরিয়াহ আইন চায়।
