দেশে কি এমন একজন আলেম, মাওলানা, হুজুরকে দেখাতে পারবেন যিনি সহস্র মানুষের সামনে মিথ্যা বলেন না?
সুদ ঘুষ খান না, বলাৎকার করেন না?
শুধুমাত্র শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন করা গেলেই এমন কিছুর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভবপর হবে। এবং ভিন্ন মত, ভিন্ন আদর্শ এবং প্রশ্ন করার অধিকারকে দমন করা যাবে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ এখন একটি তালেবানী শাসনব্যবস্থা কায়েমের অপেক্ষায়। এর সহযাত্রী খোদ বিএনপির মত রাজনৈতিক দল। জামায়াতে ইসলামীর মত চরমপন্থী রাজনৈতিক মৌলবাদী গোষ্ঠী জাতীয় সংসদের মত জায়গায় দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের ভূমিকায়। এনসিপির মত জঙ্গিরা যারা ৫ই আগস্টের আগে ও পরে নিজেরাই স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে এরাও দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক। বিএনপিও এসব মেনে নিয়েই রাজনীতি করছে। এটি উদ্বেগের।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল মূলত ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন পরিকল্পনার শেষের শুরু। আওয়ামী লীগ শাসনামলে যেসব চিহ্নিত জঙ্গিরা ছিল কোনঠাসা, এসব সকল জঙ্গিরা ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিলের দৃশ্য কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এইসব কালেমা খচিত জঙ্গি পতাকাই কি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আসল জাতীয় পতাকা?
এসবের বিরুদ্ধে সরকার এখন পর্যন্ত কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমাদের জানা নেই সরকার এসব ইসলামের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা। দেশের মাদ্রাসাগুলো থেকেই এসব জঙ্গিদের জন্ম হয়, উৎপাদিত হয় চরমপন্থা।
বাংলাদেশে শরিয়াহ আইনের দাবীতে ইসলামী জঙ্গিদের এখন অবাধ মিছিল। এসব জঙ্গিদের দ্বীন ইসলাম, নবী মোহাম্মদের পায়ুযোদ্ধাদের দ্বীনের কোরানের আলোতে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে স্বদেশ। ২০০১-২০০৬ চার দলীয় জোট সরকারের শাসনামলে যে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, যে জঙ্গিবাদের নির্দেশদাতা তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী; প্রশ্ন তাই থেকেই যায় সেই একই রাজনৈতিক চক্রের হাতে পড়ে বাংলাদেশ কি আবার সে পথেই হাঁটছে?
জঙ্গিদের মধ্যে কি কোন সভ্য নাগরিক আছে? প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তাঁর পেয়ারের জঙ্গিরা শরিয়াহ যে মিছিল নিয়ে বেরিয়েছিল, তাঁর রাজনীতির কালো পুত্র তারেক জিয়ার শাসনামলে এরা আবার একই পতাকা হাতে দ্বিগুণ হয়ে ফিরে এসেছে।
পৃথিবীর সকল ধর্মতন্ত্র মানুষকে দাস বানায়। যুগ যুগ ধরে ধর্মের নামে নারীকে দমিয়ে রাখা হয়েছে, নবী মোহাম্মদের মত নারী লিপ্সুরা নারীদের প্রতি বিকৃত যৌনাচারের উদাহরণ তৈরি করেছে। শিশুদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে, বলাৎকার করেছে। ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন চিন্তাকে অবদমিত করা হয়েছে, মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যাযজ্ঞ করে তোলা হয়েছে যুক্তির বিপরীতে।
কোনও সভ্য সমাজে কোন বিশ্বাস, কোন ধর্ম, কোনও গ্রন্থ আইন হতে পারে না। মৌলবাদের আগ্রাসনকে রুখে দিতে হবে।
